কোর্স / কোর্স বিবরণ

পাগল করার যাদুর লক্ষণ ও চিকিৎসা

  • Super admin image

    By - Super admin

  • ৩০ Min
  • (0)

কোর্স বর্ণনা

পাগল বানানো বা মস্তিষ্ক বিকৃতির জাদু পড়ালেখা নষ্ট করা এবং পাগল বানানোর জন্য মূলত একই জাদু করা হয়। এই জাদুর ক্ষেত্রে প্রায়ই জিনের সাহায্য নেওয়া হয়। তাই এ ধরনের রোগীর ক্ষেত্রে অন্য কেউ রুকইয়াহ করলে সবচেয়ে ভালো হয়। এরপর প্রয়োজন হলে পরিবারের লোকদের তত্ত্বাবধানে রুকইয়াহ করার পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে। তবে সহায়তা করার মত কাউকে না পেলে নিজেই শুরু করে দেয়া উচিত। মানুষের ওপর এই জাদুর প্রভাব সাধারণত ধীরে ধীরে পড়ে। ধাপে ধাপে এর লক্ষণগুলো প্রকট হয় এবং এক পর্যায়ে জাদুগ্রস্ত ব্যক্তি পাগল হয়ে যায়। তাই যত দ্রুত চিকিৎসা করা যায়, ততই ভালো।

✓পাগল বানানোর জাদুতে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ

১. পড়ালেখায় আগে ভালো থাকলেও হুট করে সবকিছুতে ধ্বস নামা। পরীক্ষা আসলেই অসুস্থ হয়ে যাওয়া।

২. এক জায়গায় অল্পক্ষণ থাকলেই অধৈর্য হয়ে যাওয়া। কোনো কাজ ধীরস্থিরভাবে করতে না পারা।

৩. কথাবার্তায় ভুলভ্রান্তি বেড়ে যাওয়া।ওয়াসওয়াসা বেড়ে যাওয়া।

৪. নিজের পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে অতিরিক্ত উদাসীন থাকা। অকারণে ময়লা বা ছেঁড়া জামাকাপড় পরতে ইচ্ছা হওয়া।

৫. চোখের অবস্থা অস্বাভাবিক বা অসুন্দর হয়ে যাওয়া।

৬.কোনো কারণ ছাড়াই হাঁটতে থাকা। হঠাৎ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়া। অথবা কার্যত না করলেও বারবার এমন ইচ্ছা জাগা।

৭. মাঝেমধ্যে একদম পাগলের মতো আচরণ করা। বিশেষত প্রতিদিন বিকেলের পর পূর্ণিমা কিংবা অমাবস্যার রাতে।

৮. ঠিকমত ঘুমাতে না পারা, সারারাত ঘুম না আসা।

৯. সামান্য ঘুমালেও ভীতিকর স্বপ্ন দেখা। যেমন: কেউ তাকে ধাওয়া করছে, অথবা অদৃশ্য থেকে কেউ ডাকছে।

১০. স্বপ্নে যা দেখে, এটা জাগ্রত অবস্থায়ও ঘটতে পারে। উদাহরণস্বরূপ: এরকম মনে হওয়া যে, কেউ তাকে ডাকছে, অথচ অন্যরা কিছুই শুনতে পায়নি। এগুলোর পাশাপাশি জিন-আক্রান্ত হওয়ার কিছু লক্ষণ, ওয়াসওয়াসা রোগ এবং জাদুর সাধারণ লক্ষণগুলোর সাথেও অবস্থার মিল পাওয়া যেতে পারে।

✓পাগল বানানোর জাদুর জন্য রুকইয়াহ

সাধারণ নিয়মে রুকইয়াহ করবেন। তবে এই জাদুর রোগীর ওপর রুকইয়ার সময় প্রচণ্ড ব্যাথার কারণে অনেক চিৎকার বা কান্নাকাটি করতে পারে, অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে, এব্যাপারে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকবেন। আর সেলফ রুকইয়াহ করার সময়েও কাউকে পাশে রাখা উচিত, যেন প্রয়োজনে তার সহযোগিতা পাওয়া যায়। আর এই জাদুতে আক্রান্ত রোগীর অবস্থা সময় খুব খারাপ হয়ে যায়। তাই এমনিতেই বাইরের কারও সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। সব মিলিয়ে পরামর্শ হচ্ছে, একা একা রুকইয়াহ না করা। অন্তত অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য বা রোগীকে ধরে রাখার জন্য হলেও কোনো একজনকে সাথে রাখা। ব্রুকাইয়ার পর রোগীকে নিজের প্রেসক্রিপশন অনুসরণ করতে বলুন। আর এক মাস অথবা দেড়মাস পর অবস্থা জানাতে বলুন, প্রয়োজনে আবার ভালোভাবে রুকইয়াহ করে একই সাজেশন দিয়ে দিন।

✓চিকিৎসা

১. এক থেকে দেড় মাস প্রতিদিন বেশি বেশি রুকইয়াহ শুনবেন। বিশেষত ৮ সূরা (সূরা ইয়াসিন, সফফাত, দুখান, জিন, যিলযাল, ইখলাস, ফালাক, নাস)-এর রুকইয়াহ করবেন। পাশাপাশি সূরা বাকারা, হিজর, হা-মীম সাজদা, ফাতাহ, কাফ, আর-রহমান, মূলক এবং আলা পড়বেন। সব মিলিয়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩-৪ ঘন্টা রুকইয়াহ শুনবেন। যদি আরও বেশি শুনতে পারেন, তবে আরও ভালো।

২. পাশাপাশি সূরা ফাতিহা, সূরা আরাফ : ১১৭-১২২, সূরা ইউনুস: ৮১-৮২, সূরা ত্বহা ৬৯. ইখলাস, ফালাক এবং নাস—তিনবার করে পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে দিন। এই পানি প্রতিদিন দুই বেলা খাবেন। আর গোসলের পানিতে কিছুটা মিশিয়ে গোসল করবেন।

৩. আয়াতগুলো অলিভ অয়েলে ফুঁ দিন। প্রতিদিন ঘুমের পূর্বে পুরো মাথায় ওপরে ব্যবহার করবেন। (মেয়েদের পুরো চুলে দেয়া আবশ্যক না )

✓লক্ষণীয় কিছু বিষয়

১। যদি ইতিমধ্যেই ব্রেইনের স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যায়, তবে অবশ্যই রুকইয়্যার পাশাপাশি জীনদার ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করাবেন। চাইলে অভিজ্ঞ কাউকে দিয়ে মাথায় হিজামা করাতে পারেন। ইনশাআল্লাহ উপকার হবে।

২। এই জাদুর জন্য রুকইয়াহ চলাকালীন দিনগুলোতে কোনো পেইন কিলার বা ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া যাবে না। এতে ক্ষতি হতে পারে।

৩) রুকইয়াহ শোনার সময় কষ্ট হতে পারে; প্রচণ্ড মাথা ব্যথা হতে পারে, তবুও রুকইয়াহ বাদ দেওয়া যাবে না, সবরের সাথে চিকিৎসা করে যেতে হবে। কিছুদিন ঠিকভাবে রুকইয়াহ করা হলেই আস্তে আস্তে কষ্ট কমে আসবে ইনশাআল্লাহ। বেশি খারাপ লাগলে রুকইয়ার পানি দিয়ে গোসল করলে অথবা মাথায় পানি ঢাললে আরাম পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।

৪। এই জাদুর চিকিৎসা চলাকালীন রুকইয়াহ শুনতে শুনতে অনেক রোগী অজ্ঞান হয়ে যায়, জিন ভর করে আবোল তাবোল বকতে থাকে। এ ক্ষেত্রে রুকইয়াহ বন্ধ করা যাবেনা, শুনিয়ে যেতে হবে। আর জিন কথা বললে তাকে চলে যেতে নির্দেশ দিতে হবে।

৫। অনেকে রোগীই রুকইয়াহ শুনতে চায় না, এক্ষেত্রে কৌশলে বা জোর করে হলেও শোনাতে হবে। সমস্যা কমে আসলে নিজ ইচ্ছাতেই শুনবে ইনশাআল্লাহ।

৬। সমস্যা সম্পূর্ণ ভাল হতে ৩-৪ মাসও লাগতে পারে। এক্ষেত্রে সবরের সাথে রুকইয়াহ করে হবে। আর সমস্যা ভালো হওয়ার পরও অন্তত দুই-তিন সপ্তাহ রুকইয়াহ শুনে যেতে হবে। এবং আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দুআ করতে হবে।

৭। এই জাদুতে আক্রান্ত অনেক রোগী হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে যায়, ভাঙচুর করে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের লোকদের কর্তব্য হবে ভয় না পেয়ে রোগীকে সামলানো। আর সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, আয়াতে শিফা ইত্যাদি পড়া। সম্ভব হলে মাথায় হাত রেখে পড়া অথবা পড়া শেষে ফুঁ দেওয়া। চোখে মুখে রুইয়ার পানি ছিটানো, রুকইয়ার পানি দিয়ে মাথা ধৌত করা, ওযু করিয়ে দেওয়া।

লক্ষণীয়: কিছু জাদুতে আক্রান্ত হলে মানুষ একদম একা বা অন্তর্মুখী হয়ে যায়। কারও সাথে কথা বলে না, কোনো প্রয়োজন বা সমস্যায় পড়লেও কাউকে জানায় না। আস্তে আস্তে। পাগল হয়ে যায় বা বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। এসব ক্ষেত্রেও একই চিকিৎসা দেওয়া উচিত।

কোর্স কারুকুলাম

  • 0 chapters
  • 0 lectures
  • 0 quizzes
  • ৩০ Min total length
Toggle all chapters

ইনস্ট্রাক্টর

Super admin

পবিত্র কুরআন সুন্নাহ দ্বারাও এবিষয়গুলোর সত্যতা রয়েছে। কিন্তু এ সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধান করতে গিয়ে উল্টো আরো সমস্যায় পতিত হতে হয়। কারণ জাদুকর, বদ্য, গণক ইত্যাদি শয়তান জীনের মাধ্যমে এই কাজ গুলো করতে গিয়ে বিভিন্ন শির্ক করে থাকে এবং ভুক্তভোগী রোগীদের দিয়েও প্রত্যক্ষ প্ররোক্ষ ভাবে বিভিন্ন ধরনের শির্ক করিয়ে থাকে। এতে ঈমান ও আমল ধ্বংস হয় এবং শির্ক করার কারণে দুনিয়া এবং আখিরাতে লাঞ্চিত হতে হয়।

তাই মহান আল্লাহ’র একমাত্র সন্তুষ্টির জন্য মানুষদেরকে এই বিষয়ে কুরআন সুন্নাহর আলোকে পরামর্শ দিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।

মহান আল্লাহ আমাদের এই সৎ চেষ্ঠাকে কবুল করুক এবং শির্ক এবং শয়তানি সমস্ত কাজ থেকে দূরে রাখুক এবং যারা অসুস্থ তাদেরক আপনার পবিত্র কালামুল্লাহ উছিলায় সুস্থতা দান করুন। আমিন

0 রেটিং
0 Reviews
0 শিক্ষার্থীরা
13 কোর্স

Course Full Rating

0

কোর্স রেটিং
(0)
(0)
(0)
(0)
(0)

রিভিউ পাওয়া যায়নি

সাইন ইন অথবা সাইন আপ রিভিউ পোস্ট করার জন্য ছাত্র হিসেবে

স্টুডেন্ট ফিডব্যাক

অবশ্যই আপনি পছন্দ করতে পারেন

Beginner
বিচ্ছেদ ঘটানোর যাদুর লক্ষণ ও চিকিৎসা
0 (০ রেটিং)
 √ বিচ্ছেদ ঘটানোর যাদুর লক্ষণ১. স্বামী বাইরে থাকলে ভালো থাকে; কিন্তু বাড়িতে প্রবেশ করলেই দুজনের মাঝে কারও মেজাজ খারাপ হয়...
Beginner
আসক্ত করার যাদুর লক্ষণ ও চিকিৎসা
0 (০ রেটিং)
আসক্ত করার যাদুর লক্ষণ ও চিকিৎসা আসক্ত বা বশ করার জাদু এই সমাজে প্রচলিত সবচেয়ে জঘন্য জাদুগুলোর একটি হচ্ছে "আসক্ত বা ব জ...

You must be enrolled to ask a question

Students also bought

লেখক দ্বারা আরও কোর্স

Discover Additional Learning Opportunities