বিয়ে বন্ধ/ভাঙ্গার যাদুর লক্ষণ ও চিকিৎসা
বিয়ে
ভাঙার জাদু
কাউকে বিয়ে ভাঙা বা আটকে রাখার জন্য তাবীজ বা জাদু করলে সাধারণত এরকম দেখা
যায়—বিয়ের প্রস্তাব আসে ঠিকই, সবকিছু ঠিক থাকলেও পছন্দ হয় না। সব কথা
পাকা হওয়ার পর হয়তো ছেলে বেঁকে বসে, নয়তো মেয়ে। কিংবা কোনো পরিবারের
একজন অভিভাবক অনর্থক কোনো কারণ দেখিয়ে বিয়ে ভেঙে দেয়। মেয়েদের ক্ষেত্রে
দেখা যায়, অনেক গুণবতী হওয়া সত্ত্বেও কোনো প্রস্তাব আসছে না, কেউ
প্রস্তাব দিলেও পছন্দ হওয়ার বদলে তাকে খারাপ লাগতে থাকে। ছেলে যতই ভালো
হোক, বিয়ের প্রস্তাব শোনার পর থেকেই তাকে বিরক্তিকর মনে হয়। অনেক সময়
এমন হয়, বিয়ের ব্যাপারে আলোচনা করার জন্য যেই আসে, তার অস্থির লাগে, দম
বন্ধ হয়ে আসে বা অকারণে খুব খারাপ লাগে, যার ফলে কথাবার্তা পাকা না করেই
সে ফিরে যায়।
আমার একজন আত্মীয়ার এই সমস্যা ছিল। বিয়ের আলোচনা উঠলেই সে সপ্তাহ খানেকের
জন্য অসুস্থ হয়ে যেত। রুকইয়াহ সাপোর্ট গ্রুপে একজন জানিয়েছিল, সে
এমনিতে দেখতে- শুনতে ভালো, কিন্তু বিয়ের কথা উঠলেই চেহারা বিবর্ণ
(নীল-কালোর মতো) হয়ে যায়। আবার এমন বেশ কজনের অবস্থা শুনেছি যে, বিয়ের
ব্যাপারে অনেকের সাথেই কথা হয়; কিন্তু কথা একটু আগানোর পরে অপরপক্ষ একদম
যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। মোট কথা, যেকোনোভাবে ব্যাপারটা আর বিয়ে পর্যন্ত
গড়ায় না। দুঃখজনক হলেও সত্য, এই শয়তানি জাদুর প্রচলন আমাদের দেশে অনেক
বেশি।
আল্লাহ হেফাজত করুন।
--বিয়ে ভাঙ্গার জাদুর কিছু লক্ষণ—
১. মাথাব্যথা। ওষুধ খেয়েও তেমন ফায়দা না হওয়া।
২. প্রায়সময়ই মানসিক অশান্তিতে থাকা; বিশেষত বিকেল থেকে মাঝরাত পর্যন্ত।
৩. একটুতেই রেগে যাওয়া।
|
৪. ঘুমের মধ্যে শান্তি না পাওয়া, ঠিকমত ঘুমোতে না পারা, আর ঘুম থেকে ওঠার পর অনেকক্ষণ কষ্ট হওয়া।
৫. প্রায়সময় পেটব্যথা থাকা।
৬. ব্যাকপেইন; বিশেষত মেরুদণ্ডের নিচের দিকে ব্যথা হওয়া।
৭. বিয়ের কথাবার্তা শুরু হলে অসুস্থ হয়ে যাওয়া।
৮. বিয়ের প্রস্তাব দাতাকে খারাপ মনে হওয়া। তার ব্যাপারে অনর্থক সন্দেহ সৃষ্টি হওয়া।
৯. বিশেষ কোনো সমস্যা না থাকা সত্ত্বেও বিয়ের ব্যাপারে একদমই আগ্রহ না থাকা।
১০. বিয়ে আটকে রাখার জাদু করতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সরাসরি জিনের সাহায্য নেওয়া হয়। এজন্য উল্লিখিত লক্ষণগুলোর পাশাপাশি জিন দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার কিছু লক্ষণও মিলে যেতে পারে।
আরেকটি বিষয় হচ্ছে, এই লক্ষণগুলোর কয়েকটি যদি বিবাহিত কারও মাঝে দেখা যায়, তবে এটা সম্পর্ক বিচ্ছেদের জাদু হিসেবে কাজ করতে পারে। সুতরাং অবহেলা না করে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক চিকিৎসা করতে হবে।
আমাদের গাইডলাইনে ৩স্তরে ২১দিন কুরআনিক চিকিৎসার মাধ্যমে আল্লাহর ইচ্ছায় আপনি সুস্থ হয়ে উঠবেন
চিকিৎসার উপকরণ: বৃষ্টির পানি, বড়ই পাতা, জমজম কূপের পানি, বালটি বা গামলা বা জার
Holy Water (পবিত্র পানি প্রস্তুতকরণ) ১মে ওযু করে জায়নামাজে বসে ১ বালটি বা গামল বা জার পানি নিবেন (বৃষ্টির পানি হলে বেস্ট হয়) যদি না পান নরমাল পানি হলে চলবে, সাথে জমজম এর পানি এবং বড়ই পাতা মিক্স করে নিম্নোক্ত আয়াত গুলো পড়ে ফুক দিন।
এই ভাবে নিয়ত করবেন: “ হে মহান আল্লাহ আমি আপনার দরবারে উপস্থিত হয়ে এই রোগের শিফার জন্য এই পানি গুলো তৈরী করছি। আপনিই একমাত্র শিফাদানকারী। আমার অতীতের সকল ভূলত্রুটি এবং সীমালঙ্গনগুলো ক্ষমা করুন। আপনিই একমাত্র ক্ষমাকারী। আমিন
এই পানি গুলো আপনি ১ সপ্তাহ গোসল এবং পান করার জন্য ব্যবহার করবেন।
(উক্ত পানি রোগী নিজে অথবা অন্য কেউ প্রস্তুত করেতে পারবেন।
১ম স্তর ৭দিন: (এই ৭দিন আপনার সমস্যা চিহিৃত হবে এবং রুকইয়া/চিকিৎসা শুরু করলে অনেক সময় সমস্যা বাড়তে পারে, এরপরও আপনি চালিয়ে যাবেন।
-উপরে প্রস্তুতকৃত পানি দিয়ে ৭ দিন গোসল করবেন (গোসলের পানি মাথায় দেওয়ার সময় মনে মনে নিয়ত করবেন আল্লাহ যেন আপনাকে রোগ থেকে সিফা দেয় এবং বিসমিল্লাহ বিসমিল্লাহ বলে বলে পানি গুলো মাথায় ঢালবেন)।
-প্রস্তুতকৃত পানি গুলো অন্য পানির সাথে মিক্স করে ৭দিন রেগুলার পান করবেন।
-দিনে কমপক্ষে ২বার নিচের অডিওটি শুনবেন।
পাশাপাশি জাদু নষ্টের নিয়তে মাগরিবের নামাজের পরে জায়নামাজে বসে সুরা বাকারার ১০২ নং আয়াত কুরআন থেকে দেখে দেখে ৭বার পড়বেন অথবা মোবাইল থেকে শুনবেন। পড়ার সময় আপনি ফিল করেবেন মহান সৃষ্টিকর্তা আপনার বা যার নিয়তে পড়ছেন উনার সমস্ত জাদু দৃশ্য-অদৃশ্য, শরীরের ভিতরে বা বাইরে সব নষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে।
আরো
স্টংলি নষ্ট করতে চাইলে উপরে দুয়া পড়ে যে পানি তৈরি করছেন একটি ছোট পাত্রে
পানি নিয়ে আপনার হাত দিয়ে পানি গুলো পাত্রে ছিটাবেন পাশাপাশি সুরা বাকারার
১০২ নং আয়াত তেলোয়াত করবেন। মনে মনে ফিল করবেন ওই পানি গুলো জাদুর জিনিসে
পড়ছে এবং মহান আল্লাহ আপনার জাদু গুলো নষ্ঠ করে দিচ্ছে।
২য় স্তর পরের ৭দিন: (এই ৭দিন আপনি আল্লাহর ইচ্ছায় আপনি আসতে আসতে সুস্থ হয়ে উঠবেন)
১ম ৭দিন আপনার কেমন লাগছে বিস্তারিত লিখে নিচের গ্রুপে পোস্ট করুন।
https://www.facebook.com/groups/2036579666510502
আপনার পোস্টের ভিত্তিতে পরবর্তী করণীয় কি বা কি করতে হবে আমরা বলে দিব।
৩য় স্তর এর পরের ৭দিন: (এই ৭দিন আপনি আল্লাহর ইচ্ছায় প্রোটেকশনে চলে আসবেন)
২য় স্তরের ফিডব্যাকের ভিত্তিতে ৩য় স্তরে কি করতে হবে আমরা বলে দিব।
অবশ্যয় পালনীয়:
১. সময়মতো ফরজ নামাজ আদায় করতে হবে।
২. তাহাজ্জুদ ও রোজা রাখার চেষ্ঠা করবেন।
৩। যতটুকু সম্ভব সদকা করবেন।
৪। হারাম এবং পাপ কাজ থেকে বিরত থাকবেন।
আল্লাহ আমাদেরকে মানুষ এবং জ্বিন শয়তানের হিংসা বিদ্বেষ থেকে হিফাজতে রাখুক। সব ধরনের শারীরিক, মানসিক, জাদু, টোনা, বান এবং আত্মিক রোগ-ব্যাধি থেকে আরোগ্য দান করুক। আমিন
পবিত্র কুরআন সুন্নাহ দ্বারাও এবিষয়গুলোর সত্যতা রয়েছে। কিন্তু এ সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধান করতে গিয়ে উল্টো আরো সমস্যায় পতিত হতে হয়। কারণ জাদুকর, বদ্য, গণক ইত্যাদি শয়তান জীনের মাধ্যমে এই কাজ গুলো করতে গিয়ে বিভিন্ন শির্ক করে থাকে এবং ভুক্তভোগী রোগীদের দিয়েও প্রত্যক্ষ প্ররোক্ষ ভাবে বিভিন্ন ধরনের শির্ক করিয়ে থাকে। এতে ঈমান ও আমল ধ্বংস হয় এবং শির্ক করার কারণে দুনিয়া এবং আখিরাতে লাঞ্চিত হতে হয়।
তাই মহান আল্লাহ’র একমাত্র সন্তুষ্টির জন্য মানুষদেরকে এই বিষয়ে কুরআন সুন্নাহর আলোকে পরামর্শ দিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।
মহান আল্লাহ আমাদের এই সৎ চেষ্ঠাকে কবুল করুক এবং শির্ক এবং শয়তানি সমস্ত কাজ থেকে দূরে রাখুক এবং যারা অসুস্থ তাদেরক আপনার পবিত্র কালামুল্লাহ উছিলায় সুস্থতা দান করুন। আমিনরিভিউ পাওয়া যায়নি