কোর্স / কোর্স বিবরণ

আশিক (লাভার) জীনের আছরের লক্ষণ ও চিকিৎসা

  • Super admin image

    By - Super admin

  • ৩০ Min
  • (0)

কোর্স বর্ণনা

আশিক জিন: সংক্ষেপে ধারণা এবং লক্ষণ


আশিক শব্দের অর্থ হচ্ছে লাভার বা প্রেমিক। জিন যৌন ইচ্ছা পূরণ করার জন্য, খারাপ ইচ্ছা অথবা ভালোবাসা থেকে মানুষকে দখল করার চেষ্টা করে। এটা ফাহেশা (অশ্লীল) এবং নিষিদ্ধ আচরণ, এমনকি যদি সেটা দুইজনের সম্মতিতে হয় তবুও। আর যদি জিন সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায় এই কাজ করে তাহলে এটা জুলুম।

চরিত্র, শক্তি, চেহারাভেদে এ ধরনের জ্বিনরা অনেক রকমের হয়। মানুষ যেরকম একজন আরেকজনের প্রতি ভালোবাসা, কেয়ার করা ইত্যাদি নানাভাবে আবেগপ্রবণ হয়ে যায় সেরকমই কোন কোন জিন আক্রান্ত ব্যক্তির প্রতি বেশ কেয়ারিং হয়ে যায়। আবার কোন জিন বিভিন্ন শারীরিক এবং মানসিক সমস্যা সৃষ্টি করে ব্যক্তির দেহ ‘উপভোগ’ করা শুরু করে। এরকম জিন আক্রান্ত ব্যক্তির জীবনে অনেক জটিলতা তৈরি হয়। চারপাশের সবার সাথে তাদের সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে। বিভিন্ন কারণে মানুষ এরকম জিন দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে।


লাভার জীনের প্রকারভেদ

১। এক প্রকার আশিক জ্বিন হলো- যারা ব্যক্তির দেহকে ভালোবাসে এবং দেহের প্রতি মোহাবিষ্ট হয়ে পড়ে এবং এই দেহে তাদের সবরকম অধিকার আছে বলে মনে করে। আক্রান্ত ব্যক্তির দেহকে শুধুই একটা ভোগের বস্তু মনে করে। কেউ কেউ মনে করে আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। আক্রান্ত ব্যক্তি বিবাহিত হলে জিন তাদের বিবাহিত জীবনে অনেক জটিলতা তৈরি করে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মাঝে নানান জটিলতা সৃষ্টি করে শেষ অবধি তালাক পর্যন্ত নিয়ে যায়। আক্রান্ত ব্যক্তি অবিবাহিত হলে তার বিবাহ নিয়ে নানান জটিলতা তৈরি করে বিয়েকে প্রায় অসম্ভব করে তোলে।

২। আরেক প্রকার জিন ব্যক্তির দেহের কোন একটা নির্দিষ্ট অঙ্গের প্রতি মুগ্ধ হয়ে পড়ে। যেমন- চোখ, হাত, মুখ, চুল ইত্যাদি। এই ‘ভালোবাসার’ কারণেই সে আক্রান্ত ব্যক্তিকে নানান সমস্যা ফেলে দেয়। যেমন- নানান শারীরিক অসুস্থতা, বৈবাহিক জীবনে অশান্তি, অবিবাহিতদের বিয়েতে ঝামেলা। এই ক্ষেত্রে দেখা যায় তুচ্ছ কারণে অথবা কোন কারণ ছাড়াই বিয়ে হচ্ছেনা বা প্রস্তাব আসলেও পরে আর কোন যোগাযোগ নাই।

৩। এই প্রকারের আশিক জিন অনেক বেশি ক্ষতিকর এবং এরা ফাহশা বা অশ্লীল কাজে আক্রান্ত ব্যক্তিকে ব্যবহার করে। পার্ভার্ট / বিকৃত রুচির জিন বলতে পারেন। মানসিক এবং শারীরিকভাবে অনেক টর্চার করে, কখনো তাদের পরিচিত অথবা অপরিচিত মানুষের রূপে এসে ধর্ষণ করে। এটা স্বপ্নের মত অথবা জাগ্রত অবস্থায়ও হতে পারে। কখনো আক্রান্ত ব্যক্তির বন্ধু বা তার সাথে যে থাকে তাকেও পজেস করে আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোতে উদ্বুদ্ধ করে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে সমকামীতায় অথবা কোন প্রানীর সাথে শারীরিক সম্পর্কেও জড়াতে চায় অনেকসময়।

৪। আমাদের মধ্যে যেমন গরু ছাগলের মত জন্তু জানোয়ার আছে, জিনদের মধ্যেও তাদের নিজস্ব জন্তু জানোয়ার আছে। জিনদের মধ্যে কিছু জন্তু জানোয়ার অন্য প্রানীদের সাথে শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে চায়। এই উদ্দেশ্যে তারা আক্রান্ত ব্যক্তিকে ব্যবহার করে বিভিন্ন জন্তু জানোয়ারের সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এরকম সম্পর্ক আজকাল বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি বুঝতে পারেনা কেন তাদের মাথায় এরকম চিন্তা আসছে আর কেনইবা তারা এরকম জঘন্য কাজ করছে। এতে তাদের মধ্যে একধরনের হতাশা, উদ্বেগ, ঈমানের ঘাটতি তৈরি হয়। সবচেয়ে ভয়াবহ হল, এতে আক্রান্ত ব্যক্তি অনেক ক্ষেত্রে আত্মহত্যা করে বসে।

৫। এই প্রকারের জিন প্রতিরাতে আসে আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য। সে ব্যক্তির শরীরে বসবাস করেনা। আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে তার ‘অধিকার’ আছে এরকম ধারণা থেকে নিজের ইচ্ছামত আসে এবং চলে যায়। এরকম রোগীর সংখ্যা বেশি, এর প্রতিকার নিয়ে “রাত্রিতে জিনের সমস্যা” প্রবন্ধে আলোচনা করা হয়েছে।

৬। কিছু জিন অনেক দিন পরপর আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে আসে এবং শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। মাঝখানের এই সময়ে সে নিজেদের পৃথিবীতে ঘুরে বেড়ায় অথবা অন্য কোন মানুষের সাথে কুকর্মে লিপ্ত থাকে।

৭। অন্য কিছু আশিক জিন আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেনা কিন্তু ব্যক্তির প্রতি একধরনের আকর্ষণ অনুভব করে। মানুষের মধ্যে যেমন উত্ত্যক্তকারী থাকে তেমনি এই জিনও আক্রান্ত ব্যক্তিকে দূর থেকে দেখে দেখে উপভোগ করার চেষ্টা করে। এভাবে থাকতে থাকতে একসময় কখনো সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যক্তিকে পজেস করারও চেষ্টা করতে পারে।

৮। পেডোফাইল বা বাচ্চাদের প্রতি আকৃষ্ট জিন। এই জিন বাচ্চাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তাদেরকে সঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করে তার দেহে বসবাস শুরু করে।


আশিক (লাভার) জ্বিনের আছরের লক্ষণ।
(০১) প্রচুর স্বপ্নদোষ হওয়া (Wet dream)।
(০২) প্রচুর শাররীক সম্পর্কের স্বপ্ন দেখা (Dry Dream)।
(০৩) মেয়েদের প্রচুর সাদাস্রাব (Leucorrhoea) হওয়া।
(০৪) ছেলেদের প্রায়সময়ই মজি (সাদা আঠালো পানি) বের হতে থাকা।
(০৫) মেয়েদের প্রিয়ডের সময় তলপেট জুড়ে প্রচন্ড ব্যথা।
(০৬) ঘুম থেকে উঠলে সারা গায়ে ব্যাথা থাকা।
(০৭) বিয়ের আলোচনায় চেহারা বদলে যাওয়া (ব্রণ ওঠা, কালো হয়ে যাওয়া ইত্যাদি)।
(০৮) গোপন রোগ-ব্যাধি ও শাররীক সমস্যা বেশি হওয়া।
(০৯) শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে গলায়, বুকের উপরের অংশে লাল লাল দাগ, নখের আচরের দাগ।
(১০) ঘুম থেকে উঠে লজ্জাস্থানে ব্যথা অনুভব করা।
(১১) বিছানায় শুইতে গেলেই হঠাৎ যৌন উত্তেজনা তৈরী হওয়া, বেড়ে যাওয়া।
(১২) বিবাহের প্রতি আগ্রহ অনুভব না করা, আগ্রহ হারিয়ে যাওয়া।
(১৩) (বিয়ের পরে) স্বামী/স্ত্রীর সাথে শাররীক সম্পর্কে অনীহা, বিরক্তি।
(১৪) একা থাকতে ভালো লাগে।
(১৫) সর্বদা মনমরা মনমরা ভাব।
(১৬) প্রায় সবকিছুতেই অতিরিক্ত আবেগ প্রকাশ।
(১৭) প্রায় সময়ই মাথায় অশ্লীল চিন্তা-ভাবনা ঘোরাঘুরি করা, নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।
(১৮) অস্বাভাবিক যৌনাচারের প্রতি ঝোঁক/আগ্রহ অনুভব (যেমনঃ সমকাম, পশুকাম, শিশুকাম, মাহরাম কারো সাথে যৌন মিলনের প্রতি আগ্রহ অনুভব ইত্যাদি)।
(১৯) প্রচন্ডভাবে হস্তমৈথুন (Musterbasion or Fingering)-এর প্রতি ঝোক, কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ করা যায় না এমন (ছেলে-মেয়ে উভয়ই)।
(২০) বিবাহের কথায় অজানা কারণে ভেতর থেকে কান্না আসে, বিষন্ন লাগে।
(২১) বিপরীত লিঙ্গের মানুষের প্রতি ঘৃণা, অনাগ্রহ, দেখতে না পারা, অসহ্য লাগা।
(২২) (বিবাহিতরা) পরকীয়ার প্রতি অনিয়ন্ত্রিত ঝোক অনুভব।
(২৩) কোনো অজানা কারণে বিবাহ আটকে যায়, ভেঙ্গে যায়, আলোচনা শুরু হয়ে আর আগায় না।
(২৪) একেবারে বিবাহের কোনো প্রস্তাবই আসে না।
(২৫) (মেয়েরা) স্বপ্নে নিজের বাচ্চা হয়েছে -এরকম দেখা।
(২৬) স্বপ্নে নিজেকে ছোটো বাচ্চাদের সাথে খেলা করতে দেখা।
(২৭) স্বপ্নে নিজের বিয়ে হচ্ছে -এরকম দেখা।
(২৮) স্বপ্নে অন্য কারো বিয়ে হচ্ছে -এরকম দেখা।
(২৯) স্বপ্নে নিজেকে মেহেদী লাগাতে দেখা। ইত্যাদি।

কোর্স কারুকুলাম

  • 0 chapters
  • 0 lectures
  • 0 quizzes
  • ৩০ Min total length
Toggle all chapters

ইনস্ট্রাক্টর

Super admin

পবিত্র কুরআন সুন্নাহ দ্বারাও এবিষয়গুলোর সত্যতা রয়েছে। কিন্তু এ সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধান করতে গিয়ে উল্টো আরো সমস্যায় পতিত হতে হয়। কারণ জাদুকর, বদ্য, গণক ইত্যাদি শয়তান জীনের মাধ্যমে এই কাজ গুলো করতে গিয়ে বিভিন্ন শির্ক করে থাকে এবং ভুক্তভোগী রোগীদের দিয়েও প্রত্যক্ষ প্ররোক্ষ ভাবে বিভিন্ন ধরনের শির্ক করিয়ে থাকে। এতে ঈমান ও আমল ধ্বংস হয় এবং শির্ক করার কারণে দুনিয়া এবং আখিরাতে লাঞ্চিত হতে হয়।

তাই মহান আল্লাহ’র একমাত্র সন্তুষ্টির জন্য মানুষদেরকে এই বিষয়ে কুরআন সুন্নাহর আলোকে পরামর্শ দিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।

মহান আল্লাহ আমাদের এই সৎ চেষ্ঠাকে কবুল করুক এবং শির্ক এবং শয়তানি সমস্ত কাজ থেকে দূরে রাখুক এবং যারা অসুস্থ তাদেরক আপনার পবিত্র কালামুল্লাহ উছিলায় সুস্থতা দান করুন। আমিন

0 রেটিং
0 Reviews
0 শিক্ষার্থীরা
13 কোর্স

Course Full Rating

0

কোর্স রেটিং
(0)
(0)
(0)
(0)
(0)

রিভিউ পাওয়া যায়নি

সাইন ইন অথবা সাইন আপ রিভিউ পোস্ট করার জন্য ছাত্র হিসেবে

স্টুডেন্ট ফিডব্যাক

অবশ্যই আপনি পছন্দ করতে পারেন

Beginner
ওয়াসওয়াসা/শুচিবাই এর লক্ষণ ও চিকিৎসা
0 (০ রেটিং)
ওয়াসওয়াসা/শুচিবাই এর লক্ষণ ও চিকিৎসা১. আপনি ইদানীং কারণে-অকারণে চিন্তিত থাকছেন? মাথায় বিক্ষিপ্ত চিন্তা ঘোরাঘুরি করার কার...
Beginner
ইস্তিহাযা বা অনিয়মিত স্রাবের সমস্যা ও সমাধান
0 (০ রেটিং)
ক. ইস্তিহাযার জাদুর লক্ষণ ১। মাসিক স্রাব ৩ দিনের কম বা ১০ দিনের বেশি হওয়া। আর এরকম সমস্যা কয়েক মাস হওয়া। ২। সর্বদা স্রাব...

You must be enrolled to ask a question

Students also bought

লেখক দ্বারা আরও কোর্স

Discover Additional Learning Opportunities